একজন নতুন চা প্রেমীর গল্প
একজন নতুন চা প্রেমীর গল্প
চা মূলত সুগন্ধযুক্ত ও স্বাদবিশিষ্ট এক ধরনের উষ্ণ পানীয়। যা কম বেশী সবারই পছন্দ। আমার পরিবার এর সবারই চা খুব পছন্দ হলেও আমার ছিলো চা এর প্রতি অনীহা। পারিবারিক আড্ডা কিংবা বিকেলের নাস্তা তে চা আবশ্যিক। একদা সবাই যখন চা পান করছিলো আমার আব্বু হঠাৎ আমাকে বলে – তুমি কেনো আমাদের চা আড্ডাতে সামিল হচ্ছো না? তোমাকে আমি নিজ হাতে চা বানিয়ে দিলে তুমি কি খাবে? আমি অনেক বাবা ভক্ত তিনি কিছু বললে আমি কখনও না বলতে পারি না😒। বললাম যে ঠিক আছে দাও৷ কিছুক্ষন পরে উনি আমার হাতে ১ কাপ দুধ চা ধরিয়ে দিয়ে বললেন- খেয়ে নাও দেখো ভালো লাগবে৷ সত্যিই যেই না আমি চা এ চুমুক দিলাম, মনে হয় অন্য কোনো জগৎ এ হারিয়ে গেলাম। ১ চুমুক দেয়ার পর বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম- বাবা এইটা কি চা? বাবা উত্তরে বলেছিলেন- এইটা জার চা। কিন্তু সত্যি বলতে নাম টা আমার কাছে অজানা ছিলো একদম ই৷ আমি কৌতুহল বশত আবারো বাবাকে জিজ্ঞেস করি যা – কি চা বললে? বাবা আবারো বলে যে- জার চা, রান্নাঘরে আছে দেখে এসো। আমি তখন রান্নাঘরে ঢু মেরে দেখে এসেছিলাম 😄। এই ভাবেই আমি জার চা এর সাথে পরিচিত হই এবং একজন চা লাভার হয়ে উঠি। এখন দিনে ৩-৪ কাপ চা না হলে আমার চলেই না।
জার চা পান শুরুর পর থেকে চা এর উপকারিতা আমি উপলব্ধি করা শুরু করি। এই চা আসলেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, সর্দি- কাশির সময় শরীরকে অনেক আরাম দেয়। শরীরের রক্ত জমাট বাধা দূর করে। এছাড়া আমি ত্বকের এবং যত্নেও ব্যবহার করে থাকি এই চা পাতা। আর যে কথাটি না বললেই নয় তা হলো– জার চা এর ব্যবহৃত চা পাতা রোদে শুকিয়ে আমি আমার ছাদবাগানের গাছে ব্যবহার করি যার ফলে আমার ছাদবাগানে সবসময় প্রচুর ফুল থাকে 🥰।
এছাড়াও ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করতে ব্যবহৃত চা পাতা ব্যবহার করি। আবার ঈদের সময় নিজের হাতকে রাঙিয়ে তুলি জার চা এর লিকার এর মাধ্যমে৷ অসম্ভব সুন্দর রঙ হয় হাতে।
প্রায় সবরকম চা-ই ক্যামেলিয়া সিনেনসিস থেকে তৈরি হলেও বিভিন্ন উপায়ে প্রস্তুতের কারণে এক এক ধরনের চা এক এক রকম স্বাদযুক্ত। জার চা তৈরি হয় বাছাই করা পাতা থেকে। তাই এ চা স্বাদে অতুলনীয় এবং এ চায়ের রং অন্য সব চা থেকে আলাদা।
এখন চা শব্দ টা শুনলেই মন আনচান করে ওঠে। চায়ে এক চুমুক দিলেই শরীর তরতাজা হয়ে ওঠে। ক্লান্তি ভাব দূর হয়ে যায়। চা এ জিংক থাকে যা শরীর বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন। আমার কাছে সেরা চা মানেই ” জার চা ” 💚।
