ক্লান্ত শহরে এক চুমুক শান্তি
শহরের যান্ত্রিক ব্যস্ততায় কাসমিরা ইদানীং খুব হাঁপিয়ে উঠেছিল। প্রতিদিনের অফিসের চাপ, ট্রাফিক জ্যাম আর অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়ায় তার শরীরটা যেন আর চলছিল না। সবসময় এক ধরনের ক্লান্তি আর মাথাব্যথা তাকে ঘিরে থাকতো। একদিন বিকেলে সে তার পুরনো বন্ধু সায়নের বাসায় গেল।
সায়নকে দেখেই কাসমিরা অবাক হলো। একই বয়সের হওয়া সত্ত্বেও সায়নকে বেশ ফুরফুরে আর সতেজ দেখাচ্ছে। কাসমিরা সোফায় ধপাস করে বসে পড়ে বলল, “তোর এত শক্তির রহস্য কী রে সায়ন? আমি তো সারাদিন ঝিমিয়ে থাকি, আর হজমের সমস্যায় তো জীবন অতিষ্ঠ!”
সায়ন হেসে বলল, “দাঁড়া, তোকে আজ একটা বিশেষ পানীয় খাওয়াচ্ছি।”
দশ মিনিট পর সায়ন একটি কাঁচের জারে করে ধোঁয়া ওঠা অদ্ভুত সুন্দর রঙের এক কাপ চা নিয়ে এল। তাতে ভাসাভাসি করছে আদার কুচি, লেবুর স্লাইস আর পুদিনা পাতা। সুন্দর একটা ঘ্রাণ নাকে আসতেই অবনীব মনটা যেন একটু শান্ত হলো।
কাসমিরা চুমুক দিয়ে বলল, “দারুণ তো! এটা কী চা?”
সায়ন বলল, “এটা হলো আমার স্পেশাল জার চা। আমি প্রতিদিন নিয়ম করে এটা খাই। এতে আদা, দারুচিনি, লবঙ্গ আর লেবুর রস আছে। এই চা শুধু স্বাদেই ভালো না রে কাসমিরা এর কাজও ম্যাজিকের মতো।”
পরের আধা ঘণ্টা সায়ন তাকে জার চায়ের গুণাগুণ শোনাল:
কিভাবে এটি শরীরের ভেতর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন বের করে দেয়।
কিভাবে এটি মেটাবলিজম বাড়িয়ে শরীরকে হালকা রাখে।
আর সবচেয়ে বড় কথা, এটি পানের পর মনটা মুহূর্তেই চাঙ্গা হয়ে যায়।
সেদিন সায়নের বাসা থেকে ফেরার সময় অবনী মনে মনে ঠিক করল, সেও এখন থেকে বাইরের কোল্ড ড্রিংকস বা অতিরিক্ত কফি ছেড়ে এই ভেষজ জার চায়ের অভ্যাস ধরবে।
এক মাস পর, অবনী আবার সায়নের সাথে দেখা করল। এবার কাসমিরা চোখেমুখে অন্যরকম এক উজ্জ্বলতা। সে হাসিমুখে বলল, “জানিস সায়ন, তোর সেই জার চা আমার অভ্যাস বদলে দিয়েছে। এখন আর আগের মতো ক্লান্ত লাগে না, আর অ্যাসিডিটির ওষুধ খাওয়াও প্রায় ভুলে গেছি।
